রোবটিক্স (Robotics):
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের একটি ক্ষেত্র হচ্ছে রোবটিক্স। রোবটিক্স হলো রোবট টেকনোলজির একটি শাখা সেখানে
রোবটের গঠন, ডিজাইন, কাজ,
বৈশিষ্ট্য
ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা হয়।
রোবট (Robot) শব্দটার উৎপত্তি “Robota” মতান্তরে “roboti” শব্দ থেকে। ‘Robota’ শব্দটার মানে হল দাস
(slave) বা কর্মী (worker)।
Robot শব্দটার প্রবক্তা ছিলেন ক্যারেল ক্যাপেক, যিনি
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সাইন্স ফিকশন লেখার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। কারেল চাপেক “আর-ইউ-আর” নাটকে “রোবট” শব্দটি ব্যবহার
করেন “যন্ত্রদাস” বা “যান্ত্রিক ক্রীতদাস” অর্থে। এরপর থেকেই “রোবট” শব্দটির প্রচলন শুরু হয়।
সাধারণভাবে বলা যায়, যে যন্ত্র বা কাঠামো
কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম তাকে রোবট বলে।
রোবোটিক্স
বা রোবটবিজ্ঞান হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রসমূহ ডিজাইন ও উৎপাদন সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
রোবোটিক্স-এর
সাধারণ বিষয়গুলো হলো –
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ইঞ্জিনিয়ারিং
মনোবিদ্যা
এই প্রযুক্তিটি
কম্পিউটার বুদ্ধিমত্তা সংবলিত এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবট মেশিন তৈরি করে যেগুলো আকৃতিগত দিক থেকে অনেকটা মানুষের মতো হয় এবং
অনেকটা মানুষের মতোই দৈহিক ক্ষমতাসম্পন্ন থাকে।
রোবটের
উপাদান/অংশ সমূহ:
একটি সাধারণ রোবটে নিচের উপাদান বা অংশগুলো থাকে-
প্রসেসর: রোবটের মূল অংশ যেখানে রোবটকে
কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রন করার একটি প্রোগ্রাম সংরক্ষিত থাকে। যা রোবটের সকল
কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে।
পাওয়ার সিস্টেম: লেড এসিড ব্যাটারি দিয়ে
রোবটের পাওয়ার দেওয়া হয় যা রিচার্জেবল।
ইলেকট্রিক সার্কিট: রোবটের হাইড্রোলিক ও নিউমেট্রিক সিস্টেমকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
অ্যাকচুয়েটর: রোবটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
নডাচড়া করার জন্য বৈদ্যুতিক মটরের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা হলো অ্যাকচুয়েটর।
অনুভূতি: রোবটের ইনপুট যন্ত্র হলো সেন্সর। যার মাধ্যমে পরিবেশ থেকে ইনপুট নেয়।
ম্যানিপিউলেশন: রোবটের আশেপাশের বস্তুগুলোর
অবস্থান পরিবর্তন বা বস্তুটি পরিবর্তন করার পদ্ধতিকে বলা হয় ম্যানিপিউলেশন।
মুভেবল বডি: রোবটে চাকা, যান্ত্রিক পা এবং স্থানান্তর করা
যায় এমন যন্ত্রপাতি যুক্ত থাকে।
রোবটের বৈশিষ্ট্য:
১।
রোবট সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত যা সুনির্দিষ্ট কোন কাজ দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন
করতে পারে।
২।
রোবট পূর্ব থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। কিছুটা বুদ্ধিমত্তাও আছে, যার সাহায্যে পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে রোবট কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রোগ্রামযোগ্য।
৩।
রোবট দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং কোন ধরণের বিরতি ছাড়াই কাজ করতে পারে।
৪।
রোবট যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা অস্বাস্থ্যকর স্থানে কাজ করতে পারে।
৫।
এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরতে বা স্থানান্তরিত হতে পারে।
৬।
দূর থেকে লেজার রশ্মি বা রেডিও সিগন্যালের সাহায্যে রোবট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
রোবটিক্স এর গুরুত্ব/প্রয়োগ:
১।
রোবটকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় কম্পিউটার-এইডেড ম্যানুফেকচারিং এ, বিশেষ করে যানবাহন ও গাড়ি তৈরির কারখানায়।
২।
যে সমস্থ কাজ করা স্বাভাবিকভাবে মানুষের জন্য বিপজ্জনক যেমন- বিস্ফোরক
নিস্ক্রিয়করণ, ডুবে যাওয়া জাহজের অনুসন্ধান, খনি অভ্যন্তরের কাজ ইত্যাদি কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের বা বিপদজ্জনক ও
জটিল কাজগুলো রোবটের সাহায্যে করা যায়।
৩।
কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবটের সাহায্যে নানা রকম বিপজ্জনক ও পরিশ্রমসাধ্য
কাজ যেমন- ওয়েল্ডিং, ঢালাই ,ভারী
মাল উঠানো বা নামানো যন্ত্রাংশ সংযোজন ইত্যাদির ক্ষেত্রে রোবটিক ডিভাইস বহুলভাবে
ব্যবহৃত হয়।
৪। সামরিক ক্ষেত্রেও রোবটের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হচ্ছে বোমা অনুসন্ধান
কিংবা ভূমি মাইন সনাক্ত করা ।
৫।
চিকিৎসাক্ষেত্রে রোবট সার্জনদের জটিল অপারেশনে ও নানা ধরণের কাজে সহায়তা করে থাকে।
৬।
মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে রোবটের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মহাকাশ অভিযানে এখন
মানুষের পরিবর্তে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্বলিত রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন- নাসার কিউরিসিটি রোবট।
৭. বাসা-বাড়িতে কাজের লোকের বিকল্প হিসেবেও রোবটের
ব্যবহার শুরু হয়েছে।
👍👏
ReplyDelete