জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবের ক্ষুদ্রতম একক
হলো কোষ। কোষের প্রাণকেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। নিউক্লিয়াসের ভিতরে বিশেষ কিছু
পেঁচানো বস্তু আছে যাকে ক্রোমোজোম বলা হয়। জীবভেদে ক্রোমোজমের সংখ্যা ভিন্ন হয়ে
থাকে। যেমন- মানুষের শরীরের প্রতি সেলে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। ক্রোমোজোমের
মধ্যে আবার চেইনের মত পেঁচানো কিছু বস্তু
থাকে যাকে ডিএনএ (DNA- Deoxyribo Nucleic Acid) বলা হয়। এই ডিএনএ অনেক অংশে ভাগ করা
থাকে। এই এক একটি নির্দিষ্ট অংশকে জীন বলা হয়। জীনই জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে।

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন প্রাণির বা জীবের নির্দিষ্ট DNA অংশ কেটে অন্য প্রাণির বা জীবের নির্দিষ্ট DNA অংশে প্রতিস্থাপন করা যায়।

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন প্রাণির বা জীবের নির্দিষ্ট DNA অংশ কেটে অন্য প্রাণির বা জীবের নির্দিষ্ট DNA অংশে প্রতিস্থাপন করা যায়।
এভাবে নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত যে DNA তৈরী করা হয় তাকে
রিকম্বিনেন্ট DNA বা RDNA বলে। ফলাফল হিসেবে যে জীবকোষ
পাওয়া যায় তাকে বলা হয় Genetically Modified Organism (GMO)।
মূলত DNA কাটা এবং জোড়া লাগানোর
বিষয়টি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
সুতরাং, কোন জীবকোষ থেকে নির্দিষ্ট কোন জিন
অন্যকোন জীবকোষে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের জীব সৃষ্টি ও
জীবের DNA তে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
বলে।
অন্যভাবে বলা যায়, বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের জিনোমকে নিজের সুবিধা
অনুযায়ী সাজিয়ে নেয়াকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।
জিনোম হলো প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। কোনো
প্রাণী বা উদ্ভিদের জিনোমে নিউক্লিওটাইডগুলো কীভাবে বিন্যস্ত আছে তার লিপিবদ্ধ
করাকে বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। এই নকশার ওপরই নির্ভর করে ওই প্রাণি বা উদ্ভিদের
বৈশিষ্ট্য।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-কে জেনেটিক
মডিফিকেশন (genetic
modification/manipulation-GM) ও বলা হয়। ১৯৭২ সালে Paul Berg (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জনক) বানরের ভাইরাস SV40 ও lambda virus এর ডিএনএ এর সংযোগ ঘটিয়ে বিশ্বের প্রথম
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ অণু তৈরি করেন।
বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ড.
মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও
তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০
সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা। এরপূর্বে তিনি পেঁপের
জিন নকশা আবিষ্কার করেন।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জিনোম উন্মোচিত হয়। ইলিশের জিনো উন্মোচনে দুই দল বিজ্ঞানী
কাজ করেন।
১ম দল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান
বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খান নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী একেএম
আবদুল বাতেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও
অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, প্রভাষক ফারহানা তাসনিম চৌধুরী। তবে এর মূল উদ্যোগটি ছিল
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মং সানু মারমার।
২য় দল: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ বায়োলজি
অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক সামছুল আলম নেতৃত্বে। পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বজলুর
রহমান মোল্লা, বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও
ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক গোলাম কাদের খান।
জাতীয় মাছ ইলিশের
জিনোম সিকোয়েন্স জানা সম্ভব হওয়ায় এ মাছের সার্বিক জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে এখন
পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে। আর সেই জ্ঞান ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণেও কাজে
লাগানো যাবে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে
কৃষিতে উৎপাদনের লক্ষ্য চারটিঃ
২। শস্য থেকে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান
উৎপাদন করা
৩। পরিবেশের বিভিন্ন ধরণের হুমকি থেকে
শস্যকে রক্ষা করা
৪। শস্যের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা ও রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহারঃ
ইনসুলিন তৈরি, উন্নতমানের ফসল উৎপাদন, রোগের চিকিৎসা,
হরমোন তৈরি, ভাইরাসনাশক, মৎস্য উন্নয়ন, ফারমাসিউটিক্যাল পণ্য উৎপাদন ,
টিকা ও জ্বালানি তৈরি, জেনেটিক
ত্রুটিসমূহ নির্ণয় , পরিবেশ সুরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষতিকর
দিকগুলোঃ
১। রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ যদি কোন কারণে ক্ষতিকর হয়ে পড়ে তাহলে এর প্রভাবে জীব জগতে বিপর্যয় নেমে
আসবে।
২। নিবেশিত জিন যদি ক্ষতিকর প্রোটিন
সংশ্লেষণ করে তাহলে ক্যান্সার সহ নতুন রোগ হতে পারে।


ক্ষতিকর দিক এত কম কে?
ReplyDelete