কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence):
ভিডিও কার্টেসি: Systech Publications
মানুষ যেভাবে চিন্তা ভাবনা করে, কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটার বা কোন যন্ত্রকে সেভাবে চিন্তা ভাবনা করার সক্ষমতা দান করাকে Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।
মোট কথা—মানুষের
সাধারণ আচরণ, কথাবার্তা বুঝতে পারবে কিংবা কোনো নির্ধারিত কাজ নির্দেশনা
অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে—এমন বিশেষ প্রোগ্রামই হলো ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু
রোবটেই নয়, আরো অনেক যন্ত্র, এমনকি
কম্পিউটার প্রোগ্রামেও প্রয়োগ করা
হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক ব্রিটিশ
বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিং (Alan
Mathison Turing)।
আর্টিফিশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ:
আর্টিফিশিয়াল
ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তিনটা
ক্যাটেগরি রয়েছে-
১. ANI বা Artificial
Narrow Intelligence: ANI হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট এরিয়াতে
এক্সপার্ট। যেমন যে মেশিন দাবা খেলতে পারবে, সে শুধু
দাবাই ভালো পারবে। দাবা খেলা থেকে লুডু খেলা সহজ হওয়া সত্ত্বেও তাকে দাবা খেলার
পরিবর্তে যদি লুডু খেলতে দেয়, সে পারবে না। ANI কে Weak AI ও বলা হয়। একে আমরা বলতে পারি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথম ধাপ।
২. AGI বা Artificial
General Intelligence: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিতীয় ধাপ
হচ্ছে AGI। এটাকে Strong AI, বা Human-Level
AI ও বলা হয়। এ ধাপে কম্পিউটার মানুষের মত চিন্তা করতে পারবে,
মানুষের মত প্ল্যান করা, সমস্যা সমাধান
করা, হঠাৎ নতুন কোন পরিবেশে আসলে চারপাশ দেখে সে পরিবেশের
সাথে মানিয়ে নেওয়ার মত ক্ষমতা অর্জন করবে।
৩. ASI বা Artificial
Super Intelligence: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৃতীয় ধাপ।
কম্পিউটার যখন মানুষ থেকেও বুদ্ধিমান হবে তখন তাকে আমরা বলব আর্টিফিশিয়াল সুপার
ইন্টেলিজেন্স। আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম তৈরি হলে কি হবে, মানুষের ভালো হবে না খারাপ হবে, তা নিয়ে
গবেষকরা এখনই চিন্তিত।
যদিও
এখনো চিন্তা করার মত কিছু হয়নি,
আমরা এখনো ANI তে পড়ে রয়েছি। যত বুদ্ধিমান মেশিন বা প্রোগ্রাম
রয়ছে, সব গুলোই একের অধিক আর্টিফিশিয়াল ন্যারো
ইন্টেলিজেন্স এর সমন্বয়ে গঠিত।
তবে কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা (এআই) রয়েছে এমন রোবট কিংবা সেবা মানবজীবনের জন্য হুমকি হতে পারে।
সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের এক গবেষণায় এ
তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পদ্ধতি দারুণ কিছু উদ্ভাবন কিংবা নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নে সহায়তা রাখছে এটি যেমন সত্য, তেমনি মানবজীবনের জন্যও এআই হুমকিস্বরূপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। মাইক্রোসফট রিসার্চের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের প্রধান এরিক হরভিটজ এ বিষয়ে বলেন, আমরা নানা ধরনের গবেষণা করে যাচ্ছি এবং দেখা যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে এ ধরনের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণও একসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিষয়টি যে নাও ঘটতে পারে সেটিও উল্লেখ করে এরিক জানান, এমনই যে হবে এমনটাও নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি এআই পদ্ধতি গবেষণার ক্ষেত্রে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানের ক্ষেত্রসমূহ (Domains of AI): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে তিনটি প্রধান এলাকায় গ্রুপভুক্ত করা
যায়। এগুলো হলো-
ক)
বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞান (Cognitive science)
১. এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert Systems)
২. লানিং সিস্টেম (Learning Systems)
৩. ফাজি লজিক (Fuzzy Logic)
৪. নিউরাল নেটওয়ার্ক (Neural Network)
৫. জেনেটিক অ্যালগোরিদম (Genetic Algorithm)
৬. ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট (Intelligent Agent)
১. এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert Systems)
২. লানিং সিস্টেম (Learning Systems)
৩. ফাজি লজিক (Fuzzy Logic)
৪. নিউরাল নেটওয়ার্ক (Neural Network)
৫. জেনেটিক অ্যালগোরিদম (Genetic Algorithm)
৬. ইন্টেলিজেন্ট এজেন্ট (Intelligent Agent)
খ) রোবোটিক্স (Robotics)
১. ভিজ্যুয়াল পারসেপশন (Visual Perception)
২. ট্যাকটিলিটি (Tactility)
৩. ডেক্সটারিট (Dexterity)
৪. লোকোমোশন (Locomotion)
৫. নেভিগেশন (Navigation)
গ) ন্যাচারাল ইন্টারফেস (Natural Interfaces)
১. ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ (Natural Languages)
২. স্পিচ রিকগনিশন (Speech Recognition)
৩. মাল্টিসেন্সরি ইন্টরফেস (Multisensory Interfaces)
৪. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality)
মানব বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য:
|
মানব বুদ্ধিমত্তা
|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
|
|
১। মানব বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিশীল।
২। মানব বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতিগত ভাবে প্রাপ্ত।
৩। মানব বুদ্ধিমত্তা লিখে রাখা সম্ভব নয়।
৪। মানব বুদ্ধিমত্তা ক্রমেই বিকশিত হতে পারে।
৫। মানব বুদ্ধিমত্তা
দ্রুতগতিতে কাজ করে না।
|
১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিশীল নয়।
২। মানুষ দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে প্রাপ্ত।
৩। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রোগ্রাম আকারে লিখে রাখা হয়।
৪। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকশের সুযোগ নেই।
৫। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতগতিতে কাজ করে।
|
নাইস
ReplyDelete