প্রোগ্রাম সংগঠন: প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ প্রোগ্রামের তিনটি অপরিহার্য অংশ থাকে, যা পারস্পারিক সম্পর্কের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোগ্রাম গঠিত হয়। যেমন- একটি প্রোগ্রাম কোন একটি সমস্যার সমাধান করে থাকে। একটি প্রোগ্রাম তৈরি করার জন্য কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সমস্যা নির্দিষ্টকরণ: সমস্যা সমাধানের পূর্বে তা অবশ্যই ভালোভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সমস্যার প্রকৃতি, কারণ ও সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনার কতকগুলো বিষয় এই ধাপে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বিষয়গুলো হল- সমস্যা বিশ্লেষণ: যার মাধ্যমে সিস্টেমে ব্যবহৃত উপাদান ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে সমস্যা নিরুপন, সমস্যার কারণ চিহ্নিতকরণ, ডেটা সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন সিস্টেম তৈরীর সর্বোচ্চ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এর জন্য সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। প্রয়োজনে চার্ট, তালিকা, গ্রাফ ইত্যাদির আশ্রয় নিতে হয়। সমস্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন টুলস বা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রোগ্রাম ডিজাইন: প্রোগ্রাম বিশ্লেষণ ধাপে যে ছোট ছোট ভাগগুলো করা হয়েছে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক সমাধান বের করতে হবে। ডিজাইনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত: প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশ কার্যকর করার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তৈরি করতে হয়। প্রোগ্রাম উন্নয়ন বা কোডিং: সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো একটি উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে পূর্বের ধাপে ডিজাইন করা অ্যালগরিদম বা ফ্লোচার্টের প্রোগ্রাম লিখতে হবে। একে বলা হয় কোডিং করা।
যেমন: C/java/Basic ইত্যাদি ভাষায় কোডিং করা যেতে পারে। সিস্টেম উন্নয়ন একটি সমষ্টিগত কাজ এবং প্রোগ্রাম উন্নয়নের জন্য সিস্টেম ব্যবহারকারী, সিস্টেম বিশ্লেষক এবং প্রোগ্রাম রচয়িতার মধ্যে ঘনিষ্ট যোগাযোগ থাকা দরকার। প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন: প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ধাপে প্রোগ্রাম এর টেস্টিং এবং ডিবাগিং করা হয়ে থাকে। ১। টেস্টিং: প্রোগ্রাম টেস্টিং হচ্ছে কোনো প্রোগ্রাম কোডিং সম্পন্ন করার পর প্রোগ্রামটির যে ধরনের আউটপুট বা ফলাফল হওয়া উচিৎ তা ঠিকমতো আসছে কিনা বা রান করছে কিনা তা যাচাই করা। এই ধাপে ভিন্ন ভিন্ন ইনপুট দিয়ে আউটপুটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এক্ষেত্রে যদি কোন অসঙ্গতি পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে প্রোগ্রাম কোডিংয়ের কোথাও ভুল হয়েছে। প্রোগ্রামে সাধারণত তিন ধরনের ভূল পরিলক্ষিত হয়। যথা: সিনট্যাক্স ভুল/ব্যাকরণগত ভুল: প্রোগ্রামের মধ্যে ভাষার ব্যাকরণগত যেসব ভুল থাকে তাকে বলা হয় সিনট্যাক্স ভুল। যেমন- বানান ভুল, কমা, ব্র্যাকেট ঠিকমতো না দেয়া, কোনো চলকের মান না জানানো প্রভৃতি। এসব ভুল সংশোধন করা খুবই সহজ, কারণ সিনট্যাক্স ভুলের বেলায় কম্পিউটার একটি ভুলের বার্তা ছাপায়। প্রোগ্রাম রান করালে কম্পিউটারের ভুলের বার্তার মাধ্যমে কোনো লাইনে কি ধরনের সিনট্যাক্স ভুল আছে তা জানাবে। যেমন- প্রোগ্রামে printf() কমান্ডের পরিবর্তে print() লিখা।
লজিক্যাল বা যৌক্তিক ভুল:
প্রোগ্রামে যুক্তির ভুল থাকলে তাকে বলে লজিক্যাল ভুল। সাধারণত সমস্যা ঠিকমতো না বোঝার জন্যই এ ভুল হয়। যেমন- s=a+b এর স্থানে s=a-b লিখলে লজিক্যাল ভুল হয়। লজিক্যাল ভুলের ক্ষেত্রে একটি উত্তর পাওয়া যায় যদিও তা ভুল। কম্পিউটার কোনো ভুলের বার্তা পাঠায় না বলে লজিক্যাল ভুল সংশোধন করা খুব কঠিন।
রান টাইম বা এক্সিকিউশন টাইম ভূল:
কম্পিউটারকে ভুল ডেটা জানালে বা ডেটার ফরম্যাট ঠিক না থাকলে রান টাইমে ভূল দেখায়।যেমন শূন্য দিয়ে ভাগ করা কিংবা ঋণাত্বক সংখ্যার বর্গমূল বা লগারিদম বের করা। ২। ডিবাগিং: আমরা উপরে প্রোগ্রাম টেস্টিং এর ক্ষেত্রে তিন ধরনের ভূল সম্পর্কে জেনেছি। প্রোগ্রামে যে কোনো ভুল চিহ্নিত করতে পারলে তাকে বলা হয় বাগ (Bug)। উক্ত বাগকে সমাধান করাকে বলা হয় ডিবাগ (Debug)। এক্ষেত্রে Syntax Error সমাধান করা সহজ। কিন্তু Logical Error সমাধান করা তুলনামূলক জটিল। ১৯৪৫ সালে মার্ক-১ কম্পিউটারের ভিতরে একটি মথপোকা ঢুকায় কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে ডিবাগিং কথাটির উৎপত্তি। ডকুমেন্টেশন: প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্টের সময় ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশের বিবরণ কমেন্ট হিসেবে লিখে রাখতে হয়। প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশের বিবরণ কমেন্ট হিসেবে লিপিবদ্ধ করাকে প্রোগ্রাম ডকুমেন্টেশন বলে। প্রোগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণে ডকুমেন্টেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। ডকুমেন্টেশনে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়ঃ প্রোগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ: সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ-পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে প্রোগ্রামের পরিবর্তন বা আধুনিকীকরণ করা প্রয়োজন হয়। এ ধরনের কাজ রক্ষণাবেক্ষণ ধাপের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টেশনের কাজ এ ধাপে সম্পন্ন করা হয়।প্রোগ্রাম তৈরির ধাপসমূহ
একটি আদর্শ প্রোগ্রামের নিমোক্ত বৈশিষ্ট্য সমূহ থাকতে হয়:
প্রোগ্রাম তৈরির ধাপসমূহ:
Steps of Programming
Subscribe to:
Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment