মোবাইল যোগাযোগ
ইংরেজী শব্দ থেকে মোবাইল ফোন শব্দটি এসেছে। শব্দটির বাংলা অর্থ সরানো , নাড়ানো, চলমান। তাই চলমান অবস্থায় তারবিহীন যে সকল ফোন ব্যবহার করা হয় তাকে মোবাইল ফোন বলে।
মোবাইল ফোন হলো এক ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যার সাহায্যে সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উভয়মুখী বা দ্বিমুখী রেডিও টেলিযোগাযোগ করা যায়। মোবাইল ফোনকে অনেক সময় সেলুলার ফোন, সেলফোন বা হ্যান্ড ফোনও বলা হয়।
দুটি চলনশীল ডিভাইস অথবা একটি চলনশীল ও অন্যটি স্থির ডিভাইজসের মধ্যে ডেটা ও তথ্য আদান প্রদান করার লক্ষ্যে ডিজাইনকৃত সিষ্টেমকে মোবাইল টেলিফোন সিস্টেম বলে। চলমান ডিভাইসকে মোবাইল স্টেশন বা মোবাইল সেট এবং স্থির ডিভাইসকে Land Unit
বলা হয়।
সেলুলার ফোনের ইতিহাস
সেলুলার ইতিহাস শুরু হয় ১৯২০ সালে, মোবাইল রেডিও আবিস্কারের পর। ১৯৪০ সালে মার্টিন কুপার মটোরোলা ( সিলিকন ভ্যালি কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা) আধুনিক মোবাইল ফোন আবিস্কার করে। তাই তাকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়। এই সময় হতে যুক্তরাষ্ট্রে মোবাইল ফোন শুরু হয়। পরে ১৯৫০ সালে ইউরোপ ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করে।
সেলুলার নেটওয়ার্ক:
সেলুলার টেলিফোন হলো এক ধরণের শর্ট-ওয়েভ অ্যনালগ বা ডিজিটাল টেলিযোগযোগ যেখানে কোনো গ্রাহকের একটি মোবাইল ফোন থেকে কাছাকাছি অবস্থিত কোন ট্রান্সমিটারের মধ্যে ওয়ারলেস সংযোগ থাকে। ট্রান্সমিটারের কাভারেজ এরিয়াকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। এর প্রতিটি ভাগকে বলে সেল। সেলুলার রেডিও সিষ্টেমে রেডিও সার্ভিসের সাথে ভূমি এলাকায় সিগনাল বা সংকেত সরবরাহ করা হয় যা নিয়মিত আকারের সেলে বিভক্ত। সেল ষড়ভুজাকার, বর্গাকার, বৃত্তাকার বা অন্য কোন অনিয়মিত আকারের হতে পারে। যদিও ষড়ভুজাকারই প্রথাগত।
যেহেতু সেলুলার টেলিফোন ব্যবহারকারী এক সেল বা কাভারেজ এরিয়া থেকে অন্যান্য সেল বা কাভারেজ এরিয়াতে চলাচল করে তাই টেলিফোনটি কার্যকরভাবে স্থানীয় সেল ট্রান্সমিটারের মধ্য দিয়ে যায়।
মোবাইল ফোন প্রযুক্তির প্রকারভেদ:
বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে দুইভাগে ভাগ করা যায়-
১। GSM: এর পূর্নরূপ হলো Global System for Mobile Communication.
২। CDMA: এর পূর্নরূপ হলো Code Division Multiple Access.
জিএসএম(GSM)
এবং সিডিএমএ (CDMA)
পদ্ধতির পার্থক্য:
|
জিএসএম(GSM)
|
সিডিএমএ (CDMA)
|
|
১। GSM
এর পূর্নরূপ হলো Global
System for Mobile Communication.
|
১। CDMA
এর পূর্নরূপ হলো Code
Division Multiple Access.
|
|
২। অধিক দক্ষ এবং কার্যকরী।
|
২।তুলনামূলক কম দক্ষ।
|
|
৩। বিশ্বের সব জায়গাতেই মান উন্নত।
|
৩। শুধু আমেরিকাতে মান উন্নত।
|
|
৪। যেকোন সিম কার্ড ব্যবহার করা যায়।
|
৪। যেকোন সিম কার্ড ব্যবহার করা যায় না।
|
|
৫। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা আছে।
|
৫। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা নেই।
|
|
৬। Time
Division এবং Frequency Division পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
|
৬। Code
Division পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
|
|
৭। সেল কভারেজ সর্বোচ্চ ৩৫ কিমি।
|
৭। সেল কভারেজ সর্বোচ্চ ১১০ কিমি।
|
মোবাইল
ফোন প্রজন্ম:
মোবাইল
ফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও উন্নয়নের এক একটি পর্যায় বা ধাপকে মোবাইল ফোনের
প্রজন্ম নামে অবিহিত করা হয়। এ পর্যন্ত আবিস্কৃত মোবাইল ফোনের চারটি প্রজন্মে ভাগ করা
যায়। নিচে এসব প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
প্রথম প্রজন্ম (১৯৫০-১৯৮৯):
১। রেডিও সিগন্যাল হিসেবে এনালগ সিগন্যালের ব্যবহার।
২। কম ব্যন্ডের সিগন্যাল ফ্রিকুয়েন্সির ব্যবহার।
৩। FDMA(Frequency Division Multiple Access) পদ্ধতির ব্যবহার।
৪। সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোপ্রসেসর প্রযুক্তির ব্যবহার।
৫। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা না থাকা।
৬। Handset Interperability বা সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা না থাকা।
৭। Handoff সুবিধা না থাকা।
2. দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৯০-২০০০):
বৈশিষ্ট্য
১। রেডিও সিগন্যাল হিসেবে ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবহার।
২। GSM( Global System for Mobile Communication) এবং CDMA(Code Division Multiple Access) প্রযুক্তির ব্যবহার।
৩। সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা।
৪। GSM স্ট্যান্ডার্ডে Handset Interperability বা সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। CDMA স্ট্যান্ডার্ডে এই সুবিধা নেই।
৫। এ প্রজন্ম থেকেই প্রিপেইড সিস্টেম চালু হয়।
৬। SMS,MMS এবং ভয়েস মেইল ব্যবহারের সুবিধা।
৭। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন।
৮। সমসাময়িক অন্যান্য সকল ফোনের চেয়ে আকারে ছোট এবং ওজনে হালকা।
3. তৃতীয় প্রজন্ম (২০০১-২০০৮):
বৈশিষ্ট্য
১। ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে প্যাকেট সুইচিং ও সার্কিট সুইচিং উভয় পদ্ধতির ব্যবহার।
২। পূর্বের তুলনায় উচ্চ ব্যান্ডের সিগন্যাল ফ্রিকুয়েন্সির ব্যবহার।
৩। চ্যানেল একসেস TD-SCDMA, TD-CDMA পদ্ধতির।
৪। Handset Interperability এর ব্যাপক সুবিধা।
৫। নেটওয়ার্ক GSM, EDGE, UMTS এবং CDMA 2000 স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাপক উন্নয়ন।
৬। ব্যাপক আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা।
৭। FOMA(Freedom of Multiple Access) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স,ই-মেইল সহ অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক সুবিধা প্রদান।
৮। ভিডিও কলের ব্যবহার শুরু।
4. চতুর্থ প্রজন্ম (২০০৯-বর্তমান):
বৈশিষ্ট্য
২। 3D বা ত্রিমাত্রিক ছবি দেখা যায়।
৩। শুধুমাত্র প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে ডাটা ট্রান্সমিশন করা হয়।
৪। হাই ডেফিনিশন মোবাইল টিভি, ভিডিও কনফারেন্সিং, থ্রিডি টেলিভিশন এবং গেমিং ইত্যাদির ব্যবহার শুরু।
৫। আইপি নির্ভর ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
৬। Bluetooth, WLAN, GPS(Global Positioning System), WCDMA,
GPRS(General Packet Radio Service) প্রভৃতি ওয়্যারলেস সিস্টেম সাপোর্টের জন্য নেটওয়ার্কে SDR(Software Defined Radio) প্রযুক্তির ব্যবহার।



No comments:
Post a Comment