Database_concept


ডেটাবেজের ধারণা
ডেটা : সাজানো নয় এমন কিছু বিশৃঙ্খল ফ্যাক্ট হচ্ছে ডেটা।
তথ্য: আর তথ্য হচ্ছে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ডেটার সমষ্টি।

এনটিটি :
যেসকল বিষয় বা বস্তুর ডাটা আছে সবই হচ্ছে এনটিটি। যেমন: একজন ছাত্র একটি এনটিটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার ডাটা হতে পারে তার নাম, রোল নম্বর ইত্যাদি।  সমধর্মী কতকগুলো এনটিটিকে একসাথে বলে এনটিটি সেট।

এট্রিবিউট :
একটি এনটিটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এট্রিবিউট। যেমন:  একজন ছাত্রকে যদি আমরা এনটিটি ধরি তাহলে এট্রিবিউট হবে ছাত্রের নাম, রোল ইত্যাদি। এট্রিবিউটকে ফিল্ড ও বলা হয়। যাহাই এট্রিবিউট তাহাই ফিল্ড।

ভ্যালু :
এনটিটির বৈশিষ্ট্য গুলোকে বলা হয় এট্রিবিউট। আর এট্রিবিউটের মানকেই বলে ভ্যালু।
উদাহরণ :
মনে করো একটা কলেজের ছাত্রকে যদি এনটিটি ধরি তাহলে এট্রিবিউট হতে পারে ছাত্রের নাম, রোল ইত্যাদি। আর এট্রিবিউটের মান কেই বলে ভ্যালু। যেমন: ছাত্রের নাম হতে পারে আতিক, আনিস ইত্যাদি। আবার রোল হতে পারে ০১, ০২  ইত্যাদি। সুতরাং এগুলো হচ্ছে ভ্যালু।

রোল
নাম
ঠিকানা
মোবাইল
০১
আতিক
চৌমুহনী
০১৩
০২
আনিস
মাইজদি
০১৭
০৩
আজিজ
বেগমগঞ্জ
০১৯


কী ফিল্ড :
ডেটাবেজ টেবিলের রেকর্ড শনাক্তকরণ, অনুসন্ধান এবং ডেটাবেজের একাধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যে ফিল্ড ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় কী ফিল্ড। কী ফিল্ডের ডেটাগুলো হবে অভিন্ন ও অদ্বিতীয়। কী ফিল্ড এর প্রকারভেদ-
প্রাইমারি কী
কম্পোজিট প্রাইমারি কী
ফরেন কী 

প্রাইমারি কী : 
কোনো ডেটাবেজ টেবিলের যে ফিল্ডের প্রতিটি ডেটা অদ্বিতীয় অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন এবং যার মাধ্যমে এক বা একাধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে সম্পর্কযুক্ত ডেটাবেজ তৈরি করা যায় তাকে প্রাইমারি কী বলা হয়। একটি টেবিল তৈরি করার সময়ই প্রাইমারি কী নির্ধারন করা হয়। নিচের ডেটাবেজ টেবিলের রোল ফিল্ডের প্রতিটি মান অদ্বিতীয় তাই এই ফিল্ডকে প্রাইমারি কী বলা হয়।

রোল
নাম
ঠিকানা
মোবাইল
০১
আতিক
চৌমুহনী
০১৩
০২
আনিস
মাইজদি
০১৭
০৩
আজিজ
বেগমগঞ্জ
০১৯



কম্পোজিট প্রাইমারি কী : 
একাধিক ফিল্ডের সমন্বয়ে যে প্রাইমারি কী গঠন করা হয় তাকে কম্পোজিট প্রাইমারি কী বলা হয়।  রিলেশনাল ডেটাবেজ মডেলে অংশগ্রহণকারী টেবিলের ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, একটি টেবিলের কোন একটি ফিল্ডের প্রতিটি ডেটা অদ্বিতীয় নেই। তখন একাধিক ফিল্ডের সমন্বয়ে প্রাইমারি কী গঠন করা হয়।

রোল
নাম
শ্রেণী
মোবাইল
০১
আতিক
একাদশ
০১৩
০১
আনিস
দ্বাদশ
০১৭
০৩
আজিজ
একাদশ
০১৯

ফরেন কী : 
রিলেশনাল ডেটাবেজ মডেলে কোনো একটি টেবিলের প্রাইমারি কী যদি অন্য টেবিলে ব্যবহৃত হয় তখন ঐ কী কে প্রথম টেবিলের সাপেক্ষে দ্বিতীয় টেবিলের ফরেন কী বলে। ফরেন কী এর সাহায্যে একটি টেবিলের সাথে অন্য টেবিলের সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। যেমন নিচের চিত্রে ছাত্রদের তালিকা টেবিলের বিষয়কোড প্রাইমারি কী কোর্স তালিকা টেবিলে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই কোর্স তালিকা টেবিলের ক্ষেত্রে বিষয়কোড ফিল্ডটি ফরেন কী।
ছাত্রদের তালিকা
রোল
নাম
গ্রুপ
বিষয় কোড
০০১
বিজ্ঞান
২৭৫
০০২
মানবিক
২৪৯

কোর্স তালিকা
বিষয় কোড
বিষয়ের শিরোনাম
২৭৫
আইসিটি
২৪৯
ইসলাম শিক্ষা

ফিল্ড : ফিল্ড হচ্ছে ডেটাবেজের ভিত্তি। নিচের উদাহরণে নাম, রোল, শ্রেণী, মোবাইল ইত্যাদির ভ্যালু হচ্ছে এক একটি ফিল্ডের উদাহরণ।
রেকর্ড :  পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কয়েকটি ফিল্ড নিয়ে গঠিত হয় এক একটি রেকর্ড। নিচের উদাহরণে আতিকের নাম, রোল, শ্রেণী ও মোবাইল নিয়ে একটি রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
টেবিল : এক বা একাধিক রেকর্ড নিয়ে একটি টেবিল তৈরি হয়। সাধারণত টেবিলের একটি নাম থাকে।
ছাত্রদের তালিকা
রোল
নাম
ঠিকানা
মোবাইল
০১
আতিক
চৌমুহনী
০১৩
০২
আনিস
মাইজদি
০১৭
০৩
আজিজ
বেগমগঞ্জ
০১৯

ডেটাবেজ : ডেটাবেজ হলো এক বা একাধিক ফাইল বা টেবিল নিয়ে গঠিত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ডেটার সংগ্রহ বা সমাবেশ।
ডেটাবেজ দুই প্রকার:
১. সাধারণ ডেটাবেজ                          ২. রিলেশনাল ডেটাবেজ
সাধারণ ডেটাবেজ :
শুধুমাত্র একটি ফাইল বা পরস্পর সম্পর্কবিহীন একাধিক ফাইলের সমন্বয়ে সাধারণ ডেটাবেজ গঠিত হয়। এই ধরনের ডেটাবেজে রেকর্ডগুলো তালিকা আকারে থাকে। যেমন নিচে একটি সাধারণ ডেটাবেজের উদাহরণ দেয়া হলো:
রোল
নাম
গ্রুপ
জিপিএ
০০১
মানবিক
৫.০০
০০২
বিজ্ঞান
৫.০০

রিলেশনাল ডেটাবেজ :
এই ডেটাবেজের ফাইলগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হয়। এটি ডেটাবেজের সবচেয়ে আধুনিক সংগঠন। যেমন নিচের ফাইল দুইটি দেখ। তাদের মধ্যে সম্পর্ক আছে। তাই তাদের মিলে গঠিত ডেটাবেজের নাম রিলেশনাল ডেটাবেজ।
রোল
নাম
গ্রুপ
০০১
মানবিক
০০২
বিজ্ঞান

রোল
জিপিএ
০০১
৫.০০
০০২
৫.০০

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম :
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা DBMS হলো এমন একটি প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার যা ডেটাবেজ তৈরি, পরিবর্তন, সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করা। যেমন কিছু জনপ্রিয় সফটওয়্যার হলো:
Microsoft Access, Oracle, dBase, Condor, Foxbase, R. Base 4000, Paradox ইত্যাদি।

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর কাজ :
ডেটাবেজ তৈরী করা।
নতুন রেকর্ড যোগ করা।
রেকর্ড আপডেট করা।
অপ্রয়োজনীয় রেকর্ড মুছে ফেলা।
ডেটা সংরক্ষণ করা।
ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ডেটাবেজের ব্যাকআপ রাখা এবং রিকভারি করা।
প্রয়োজনীয় ডেটাবেজ প্রিন্ট করা।
একসাথে একাধিক প্রবেশকারীর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
১০ডেটাবেজের রিপোর্ট তৈরী করা।


ডেটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর: যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের উপর ডেটাবেজের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অর্পিত থাকে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ডেটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর বলে। সংক্ষেপে বলা যায়, ডেটাবেজের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিকে ডেটাবেজ এডমিনিস্ট্রেটর বলে।

No comments:

Post a Comment