ক্লাউড কম্পিউটিং

আমেরিকার ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং এর সংজ্ঞা অনুসারেবিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- নেটওয়ার্ক , সার্ভারস্টোরেজসফটওয়্যার সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রেতার সুবিধা অনুসারেচাহিবামাত্র চাহিদা অনুসারেসহজে ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান বা ভাড়া দেয়ার সিস্টেমকে বলা হয় ক্লাউড কম্পিউটিং।
সহজে বলতে গেলেক্লাউড কম্পিউটিং হলো এমন একটি বিশেষ পরিসেবা, যেখানে ক্রেতার তথ্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনকে কোনো সেবাদাতার সিস্টেমে আউটসোর্স করার একটি মডেল

ক্লাউড কম্পিউটিং এর ৩টি বৈশিষ্ট্য-
. রিসোর্স স্কেলেবিলিটি: ছোট বড় যাই হোক ক্রেতার সব ধরনের চাহিদাই মেটানো হবে। ক্রেতা তার সুবিধামত যেমন সেবা চাইবে, সেবা দাতা সেই ভাবে সেবা দিটে পারবে।
. অন ডিমান্ড: On Demand মানে যখন চাইবে তখন দেওয়া। ক্রেতা যখন চাইবে সার্ভিসদাতা তখনই সার্ভিস দিবে।
. পে অ্যাজ ইউ গো: PAY AS YOU GO মানে হচ্ছে ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগবে না। ক্রেতা যতটুকু ব্যবহার করবে শুধু ততটুকুই পরিশোধ করবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ
ক্লাউড কম্পিউটিং কে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:

প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud)

একক ভাবে কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন কোন ক্লাউড সার্ভিস যখন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মী বা তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং তা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অথবা বাহিরে কোথাও হোস্টিং হয় তখন তাকে প্রাইভেট ক্লাউড বলে।  ধরনের ক্লাউড একটু বেশি ব্যয়বহুল।

পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud)
পাবলিক মানে সকলের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক ক্লাউড হচ্ছে সকলের জন্য উন্মুক্ত ক্লাউড। এই ক্লাউডের সার্ভিসগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। যেমন, পাবলিক ক্লাউডের উদাহরণ হচ্ছে  Microsoft , Amazon, Google ইত্যাদি। এদের নিজস্ব ডেটা সেন্টার আছে যেখানে ডেটা জমা থাকে এবং প্রয়োজনে প্রসেস করা যায়।

হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud)
হাইব্রিড মানেই হচ্ছে দুই বা ততোধিকের সংমিশ্রণ তাই হাইব্রিড ক্লাউড বলতে দুই বা ততোধিক (যেমন - প্রাইভেটপাবলিক ইত্যাদি) এর সংমিশ্রণকে বোঝায়। হাইব্রিড ক্লাউডে যেটা হয় সেটা হলো দুই বা ততোধিক ক্লাউডের মিশ্রণের ফলে এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও ক্লাউড কম্পিউটিং এর আরও কিছু প্রকারভেদ আছে। যেমন-
  • কমিউনিটি ক্লাউড (Community cloud)
  • ডিস্ট্রিবিউটেড ক্লাউড (Distributed cloud)
  • মাল্টিক্লাউড (Multi cloud)
  • ইন্টারক্লাউড( Inter cloud)

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা
১। ছোট প্রাথমিক উদ্যোক্তারা সহজেই ব্যবসা করার সুযোগ পায়।
২। সবসময় ব্যবহার করা যায়।
৩। যেকোন স্থান থেকে সুবিধা ভোগ করা যায়।
৪। কম সংখ্যক জনবল লাগে।
৫। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট হয় এবং সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  
৬। হার্ডওয়্যারসফটওয়্যার এবং লাইসেন্স ফি এর জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয় না।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর অসুবিধা
১। ক্লাউডে আপলোড করা তথ্য কোথায় জমা হলো জানা যায় না।
২। ক্লাউডে তথ্যের নিরাপত্তা গোপনীয়তা কম (যেহেতু তথ্য  সার্ভিসদাতার কাছে চলে যাচ্ছে)
৩। তথ্যের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
৪। ক্লাউডে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
হারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিস মডেল
সার্ভিস মডেল অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং ধরনের। যথা-

. Infrastructure as a Service (IaaS)
Infrastructure মানে হচ্ছে অবকাঠামো। এই মডেলে আসলে অবকাঠামো ভাড়া দেয়া হয় তাই এর নাম Infrastructure as a Service.  আমাজন এর ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড (EC2) এরকম একটি মডেল। এই মডেলে ভার্চুয়াল মেশিন ভাড়া দেয়া হয়। ভার্চুয়াল মেশিন একটা আলাদা কম্পিউটারের মতই কাজ করে কিন্তু এটা ভার্চুয়াল অর্থাৎ বাস্তবে কোন হার্ডওয়্যার নেই।

. Platform as a Service (PaaS)
এই মডেলে প্লাটফর্ম ভাড়া দেয়া হয়। যেমন: অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি।  আসলে প্লাটফর্ম ভাড়া নিলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার এমনিতেই ভাড়া করা হয়ে যায়।
Microsoft এর Azure এবং Google এর App Engine এই মডেলের উদাহরণ

. Software as a Service (SaaS)
এই মডেলে সার্ভিসদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লায়েন্টদের বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেটাবেজ ব্যবহার করার সু্যোগ দেয়। 
SaaS এর উদাহরণ - Dropbox, Google এর বিভিন্ন Apps


জনপ্রিয় কিছু ক্লাউড কম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশন
Google Apps: গুগল অ্যাপস অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন। ডকুমেন্ট তরি করা, স্প্রেডশিড তৈরি, স্লাইড শো তৈরি, ক্যালেন্ডার মেইনটেন্স, পার্সোনাল ইমেইল ইত্যাদি সার্ভিস দিয়ে থাকে।
Evernote: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নোট সমূহ খুব সহজে কন্ট্রোল করা, ব্যবহার করা, যেকোনো স্থানে যেই নোট সমূহ ব্যবহার করাতে Evernote খুবই উপকারি।
Quickbooks: এটি একটি একাউন্ট সার্ভিস। এর মাধ্যমে ক্যাশ নিয়ন্ত্রন করা, বাজেট তৈরি, বিজনেস রিপোর্ট তৈরি করা যায়।
Toggl: এটি একটি জনপ্রিয় টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপলিকেশন। প্রোজেক্ট কন্ট্রোল এবং টাইমিং এর জন্য এটা ব্যবহার করা হয়।
Box.net: খুবই চমৎকার একটি সার্ভিস। এটা যেকোনো ধরনের ডিভাইস দিয়ে কন্ট্রোল করা যায়। এতে রাখা যেকোনো ফরমেটের ফাইল যেকোনো স্থানে বসে দেখা যায় বা ব্যবহার করা যায়।
One Drive: মাইক্রোসফট এর সার্ভিস। আগে এটি স্কাইড্রাইভ নামে পরিচিত ছিল। দরকারি একটি সার্ভিস। ভার্চুয়াল হার্ডডিস্কও বলা যেতে  পারে। এর মাধ্যমে যে কোন ধরনের ফাইল রাখা এবং তা পিসি থেকে কন্ট্রোল বা অন্যের সাথে খুব সহজে শেয়ার করা যায়।  

No comments:

Post a Comment