বিশ্বগ্রামের ধারণা
সংশ্লিষ্ট উপাদান সমূহ
১। যোগাযোগ (Communication)
২। কর্মসংস্থান (Employment)
৩। শিক্ষা (Education)
৪। চিকিৎসা (Treatment)
৫। গবেষণা (Research)
৬। অফিস (Office)
৭। বাসস্থান (Residence)
৮। ব্যবসা বাণিজ্য (Business)
৯। বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ (Entertainment
and Social Communication)
১০। সংবাদমাধ্যম (News)
১১। সাংস্কৃতিক বিনিময় (Cultural
Exchange)
১. যোগাযোগ: তথ্যের আদান প্রদানকে বলা হয় যোগাযোগ এবং যে প্রযুক্তি
ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ পরস্পরের সাথে
দ্রুতগতিতে যোগাযোগ করতে পারে, তাকে যোগাযোগ প্রযুক্তি
বলা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার যোগাযোগ ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন
সাধন করেছে ,
সেই সাথে বিশ্বকে গ্রামে
রূপান্তরিত করেছে |
যোগাযোগ বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। যেমন–
১। মৌখিক বা বাচনিক যোগাযোগ- মোবাইল, স্কাইপী, ভাইবার, টেলিকনফারেন্সিং, ভিডিও
কনফারেন্সিং, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি।
২। অবাচনিক যোগাযোগ– মুখের বিভিন্ন অভিব্যক্তি, চোখের বা হাতের ইশারা
ইত্যাদি।
৩। লিখিত যোগাযোগ- ই-মেইল, এসএমএস ফ্যাক্স ইত্যাদি।
বর্তমানে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যমগুলো হলো –
ই-মেইল
টেলি কনফারেন্সিং
ভিডিও কনফারেন্সিং
ই-মেইল: ই-মেইল হচ্ছে ইলেকট্রনিক
মেইল । অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক যন্তপাতি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
নির্ভরযোগ্যভাবে বার্তা আদান-প্রদান করার পদ্ধতি হচ্ছে ই-মেইল। ডাকযোগে চিঠি পাঠানোর জন্য যেমন একটি ঠিকানা থাকতে হয়, ঠিক
তেমনি ই-মেইল ব্যবহারকারী প্রত্যেকের অদ্বিতীয় ঠিকানা থাকতে হয়। উদাহরনঃ rafiqduis@gmail.com
টেলিকনফারেন্সিং: বিভিন্ন ভৌগোলিক
দূরুতে অবস্থান করে টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি যেমন টেলিফোন, মোবাইল
ইত্যাদি ব্যবহার করে সভা কার্যক্রম পরিচালনা করার কৌশল হলো টেলিকনফারেন্সিং। টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থায় কোনো সভায়
অনুমোদিত সকলকে সশরীরে উপস্থিত না থেকেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে উক্ত সভায়
অংশগ্রহন করতে পারে। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয়ী হয়।
ভিডিও কনফারেন্সিং: বিভিন্ন ভৌগোলিক দূরুতে অবস্থান করে ব্যক্তিবর্গ
কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তরের মাধ্যমে
যোগাযোগ বা সভা কার্যক্রম পরিচালনা করার কৌশল হলো ভিডিও কনফারেন্সিং। স্কাইপী ,
ফেসবুক মেসেঞ্জার ইত্যাদির
মাধ্যমে খুব সহজেই ভিডিও কনফারেন্সিং করা যায়।
রিজার্ভেশন সিস্টেম: বাস, বিমান, রেল, লঞ্চ
ও হোটেল বুকিং ।
ইলেক্ট্রনিক ফান্ড
ট্রান্সফার:
২. কর্মসংস্থানঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং কর্মসংস্থানের নতুন দার
উন্মোচন করেছে। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে দেশে বসে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ
সৃষ্টি হয়েছে।
কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ
নিজেরা না করে তৃতীয় কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেওয়াকে বলা হয় আউটসোর্সিং।
কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে
দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি না করে, স্বাধীনভাবে নিজের দক্ষতা
অনুযায়ী কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।
যখন কোন ব্যাক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি না করে
স্বাধীনভাবে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী
কাজ করে তখন তাকে ফ্রিল্যান্সার বলা হয়।
আউটসোর্সিংয়ের জন্য প্রয়োজন:
প্রোগ্রামিং ভাষা
ডেটা এন্ট্রি
ডেটা প্রসেসিং
ওয়েব ডিজাইনিং
গেইমস তৈরি
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা
সফটওয়্যার পরীক্ষণ
মাল্টিমিডিয়া
গ্রাফিক্স ডিজাইন
থ্রিডি এনিমেশন
ছবি সম্পাদনা
কারিগরি সেবা
অনুবাদ
ফিচার রাইটিং ইত্যাদি।
www.freelancer.com
৩. শিক্ষাঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
শিক্ষা বিস্তারে একটি শক্তিশালী টুলস। ফরমাল এবং নন-ফরমাল উভয় পদ্ধতিতেই এটি
অত্যন্ত কার্যকর। যে কোনো সময় এবং যে কোন স্থানে
শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে আইসিটির বদোলতে। বিশ্বগ্রামের ধারনায় পৃথিবীতে শিক্ষার
আদি ধ্যান ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
শিক্ষা গ্রহনের জন্য কোন
শিক্ষার্থীকে গ্রাম থেকে শহরে কিংবা একদেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হবে না। এতে সময় ,অর্থ, পরিশ্রম
সাশ্রয় হবে। শিক্ষক ঘরে বসেই শিক্ষা দান করতে পারে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই শিক্ষা
গ্রহন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। অনলাইনেই পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যাচাই করা
যায়। ফলাফলের জন্য শিক্ষর্থীদেরকে
যেতে হবে না নির্দিষ্ট গন্তব্যে।এই ধারণাকে বলা হয় দূরশিক্ষণ বা ডিসটেন্স লার্নিং।
ইবুক বা ইলেকট্রনিক বুক বলতে
ডিজিটাল ফর্মে টেক্সট, চিত্র ইত্যাদি ডকুমেন্ট বইকে বুঝায় যা কোন কম্পিউটার, ট্যাব, ই-বুক
রিডার ও স্মার্ট ফোন ইত্যাদি ব্যবহার করে পড়া সম্ভব।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
ডিজিটাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষক:
নিজস্ব ওয়েব সাইট, ফেসবুক, টুইটারে, ইউটিউব চ্যানেলে লিখবেন, লেসন আপলোড করবেন।
শিক্ষার্থী:
নিজের মোবাইল/কম্পিউটার থেকে দেখবে, পড়বে, অনুশীলন করবে, পরীক্ষা দিবে।
আইসিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রধান
বিষয়াবলি:
১. মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ই-বুক
২. অনলাইন লাইব্রেরি
৩. শিক্ষকদের আইসিটি ট্রেনিং
৪. ট্রেইনার নিয়োগ
৫. ডিজিটাল পাঠ্যক্রম
৬. ডিজিটাল ক্লাসরুম
৭. ক্লাসে বিভিন্ন ডিভাইস প্রদর্শন
৮. ইন্টরনেট, ই-মেইল সম্পর্কে ধারণা প্রদান
৪. চিকিৎসাঃ বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির
ব্যবহার উল্লেখ করার মতো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা যা তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর
তা আজ মানুষকে এনে দিয়েছে দীর্ঘ এবং সুন্দর জীবন।
রোগীকে চিকিৎসালয়ে
ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে, বিশ্বগ্রামের ফলে চিকিৎসার
এই ধারণার বা পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা সেবা প্রদান বা
গ্রহনের জন্য কোন ডাক্তার বা রোগীকে এখন আর গ্রাম থেকে শহরে কিংবা এক দেশ থেকে
অন্য দেশে যেতে হচ্ছে না বিশ্বের যে কোন স্থানে বসেই যে কোন চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ
সম্ভব।
নিচে স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কিছু প্রয়োগ উল্লেখ করা
হলো-
রোগ নির্ণয়
ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড
টেলিমেডিসিন: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে কোন
ভৌগলিক ভিন্ন দূরুতে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক , রোগ
নির্ণয় কেন্দ্র, বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক
ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা
হয়।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা:
চিকিৎসক ও রোগীর
যোগাযোগ সহজতর করা:
৫. গবেষণা: গবেষণা কাজে তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিসীম। পূর্বে দেখা যেত, একই বিষয়ের উপর একাধিক বিজ্ঞানী গবেষণা করছেন। একজন অন্য জনের খবর জানতেন
না অথবা কোনো বিজ্ঞানী তাঁর গবেষণা কার্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু বর্তমান এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ফলে
বিজ্ঞানীরা তাদের চিন্তাধারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে
প্রকাশ করতে পারে। পৃথিবীর যেকোনো একপ্রান্তে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা শুরু
করলে ইন্টারনেটের সাহায্যে সবাই অবগত হয়। তথ্য নিয়ে গবেষণার জন্য গবেষককে ছুটতে
হচ্ছে না বড় কোন গবেষণা কেন্দ্রে বা বড় কোন লাইব্রেরিতে । তথ্য নিয়ে গবেষণার জন্য
গবেষককে ছুটতে হচ্ছে না এক দেশ থেকে অন্য দেশে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে
ঘরে বসেই আমরা সকল তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।
৬. অফিসঃ বর্তমানে বিশ্ব গ্রামে
পরিবর্তিত হওয়ায় পৃথিবীতে অফিসের এই ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হতে চলেছে।
চাকরিজীবীকে বা সেবাগ্রহীতাকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছুটে চলতে হচ্ছেনা। পৃথিবীর
যে কোন স্থানে বসেই অফিসের কাজকর্ম করা যায় কিংবা সেবা গ্রহণ করা যায়। অফিসের জন্য
প্রয়োজন হচ্ছেনা স্থায়ী ঠিকানার বা কোন অবকাঠামোর। বদলে যাচ্ছে অফিসের ফাইল-পত্র
সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন কাজ করার পদ্ধতি। যে সকল ব্যবস্থা ধারণাগত বিশ্বগ্রামের অফিস
ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে-
কম্পিউটার
ইন্টারনেট
ওয়েব সাইট
তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অফিসের সার্বিক কার্যক্রমের (প্রয়োজনীয়
ডকুমেন্ট তৈরি ও সংরক্ষন, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের
মধ্যে অভ্যন্তরীন ও বহিঃযোগাযোগ ইত্যাদি) বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা বাস্তবায়ন
কার্যক্রম দক্ষতার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। এই ধরণের প্রযুক্তি
নির্ভর কার্যক্রমকে বলা হয় অফিস অটোমেশন।
৭. বাসস্থানঃ মানুষ যেখানে বাস করে
সেটিই বাসস্থান। গতিনুগতিক এই ধারণা অনেকটাই বদলে যেতে শুরু করেছে। আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে মানুষ এক দেশে বসেই অন্য দেশে ভার্চুয়ালি বিচরণ বা বসবাস
করতে পারে । ভিডিও চ্যাটিং এর মাধ্যমে উভয় প্রান্তের লোকগুলো একে আপরকে সামনা
সামনি দেখছেন। সকলেই হয়ে উঠছেন ইন্টারনেট অধিবাসী
বা নেটিজেন।
স্মার্ট হোম এমন একটি বাসস্থান যেখানে
রিমোট কন্ট্রোলিং এর সাহায্যে যেকোনো স্থান থেকে কোন বাডির সিকিউরিটি কন্ট্রোল
সিস্টেম ,হিটিং সিস্টেম,
কুলিং সিস্টেম, লাইটিং
সিস্টেম, বিনোদন সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ
করা যায়। স্মার্ট হোমকে হোম অটোমেশন সিস্টেমও বলা হয়।
৮. ব্যবসা–বাণিজ্যঃ বিশ্বগ্রাম বা আমাদের বিশ্বগ্রামে পরিবর্তিত পৃথিবীতে
ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারণার বা পদ্ধতির ব্যপক
পরিবর্তন হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য যেতে হচ্ছে না এক
গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে
ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই পণ্যের বাজার সম্পর্কে
খোঁজখবর নিতে পারছে। পণ্য
উৎপাদনকারী বা সেবাদানকারী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সকল পণ্য বা সেবার বিবরণ ছড়িয়ে দিতে
পারছেন বিশ্ববাজারে। ক্রেতা বা ভোক্তা বাসায় বসে ইন্টারনেট এর সাহায্যে কোন
ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে পণ্য বা সেবা পছন্দ করে ক্রয় করেতে পারছে এবং অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করতে পারছে,
যাকে অন-লাইন শপিং বলা হয়।
ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র
যেখানে ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা
ক্রয়/বিক্রয় বা লেনদেন হয়ে থাকে। কিছু ই-কমার্স এর উদাহরণ- alibaba.com, amazon.com, daraz.com.bd rokomari.com ইত্যাদি। আধুনিক
ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ
পরিচালনা করে।
ই–কমার্স এর ধরণঃ পণ্য বিক্রয়ক্ষেত্র ও লেনদেনের প্রকৃতি অনুযায়ী ই-কমার্সকে
প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়। –
১। Business to Consumer (B2C)
২। Business to Business (B2B)
৩। Consumer to Business (C2B)
৪। Consumer to Consumer (C2C)
ই–কমার্স এর সুবিধাঃ
১। ই-কমার্সের প্রধানতম সুবিধা হল সময় ও
ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা দূর করে।
২। ঘরে বসে যেকোন পন্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়
এবং ক্রয়-বিক্রয় কৃত পন্যের মূল্য পরিশোধ করা যায় বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিড-ক্রেডিট
কার্ড, বিকাশ, কুরিয়ার সার্ভিস, পোষ্ট
অফিস ইত্যাদির মাধ্যমে।
৩। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় খরচ কম হয়।
৪। বিজ্ঞাপন ও বিপণন সুবিধা, বাজার
যাচাই ও তাৎক্ষণিক অর্ডার প্রদানে সুবিধা ইত্যাদি।
ই-কমার্স এর অসুবিধাঃ
১। দূরবর্তী স্থানের পণ্যের অর্ডার ক্ষেত্র
বিশেষে ব্যয়বহুল।
২। লেনদেনের নিরাপত্তা সমস্যা।
৩। রিয়েল পণ্য দেখার সুযোগ থাকে না।
৪। ডুপ্লিকেট পন্যের চটকদার বিজ্ঞাপন
ইত্যাদি।
৯. বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ: একটা সময় মানুষের বিনোদনের প্রধান অবলম্বন ছিল স্থানীয় কিছু
খেলাধুলা, বিভিন্ন রকম গান বাজনা।কিন্তু সিনেমা, রেডিও, টেলিভিশন
ইত্যাদি আবিষ্কারের ফলে বিনোদন মাধ্যমের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট
(youtube.com, soundcloud.com) থেকে বিনামূল্যে ভিডিও
দেখা, অডিও শুনা বা ডাউনলোড করা যায়। এছাড়া কম্পিউটার বা মোবাইলে
গেইম খেলা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। অনলাইনের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করেও
একাধিক খেলোয়ার বিভিন্ন গেমস খেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে
মানুষ কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন ইত্যাদি
যন্ত্রের মাধ্যমে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত হয়ে ভার্চুয়াল কমিউনিটি তৈরি করে এবং
ছবি , ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করে।
অতীতে সামাজিক যোগাযোগের
প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি যার কারনে বিশ্ব সাহিত্যের বড় একটা অংশ দখল করে আছে পত্র
সাহিত্য।কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের জন্য বিশ্বগ্রামের নাগরিকরা ব্যবহার
করে Facebook, Twitter বা এই ধরণের ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া। বিশ্বগ্রাম নাগরিকের বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের সফল
মাধ্যমই হবে ইন্টারনেট যুক্ত একটি কম্পিউটার ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধাসমূহ–
১। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
সবার সাথে খুব সহজেই সংযুক্ত থাকা যায়।
২। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই নিজস্ব
অভিমত শেয়ার করে থাকে ফলে সমভাবাপন্ন মানুষ খুজে পাওয়া যায়।
৩। যেকোন পন্য বা সেবার প্রচারের
গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৪। দ্রুতগতিতে তথ্যের বিস্তার হয়ে থাকে।
৫। অপরাধী সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করতে সহায়ক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসুবিধাসমূহ–
১। মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
২।
পারস্পারিক সম্পর্কের
বিচ্ছেদ হতে পারে।
৩। সাইবার সন্ত্রাসী কার্যক্রম হতে পারে।
৪। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
১০. সংবাদমাধ্যম: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বগ্রামের যে কোন
জায়গায় ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ, ছবি অথবা ভিডিও মুর্তেই
ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো যায় এমনকি স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি
সম্প্রচার করা যায়। এছাড়া যে কোন খবরের আপডেট প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া
যায়। অর্থাৎ অতি দ্রুততার সাথে সংবাদ প্রচারের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার মান সহজ
হয়েছে।
১১. সাংস্কৃতিক বিনিময়ঃ মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের ব্যপকতা তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে বিশ্বের সকল রকম সংস্কৃতির মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া সুযোগ ঘটেছে। একে অপরের সাথে তথ্য বিনিময় করার সুযোগ পাচ্ছে
বিভিন্ন ধরণের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে। সহজেই অডিও বা ভিডিও
বিনিময়ে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মাঝে সংস্কৃতি বিনিময় ঘটছে। youtube, facebook এই ধরণের ওয়েবসাইটের মধ্যমে বিশ্বগ্রামের সকল নাগরিকই হবে
সংস্কৃতির ধারক ও বাহক ।
No comments:
Post a Comment