কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
নেটওয়ার্ক: দুই বা
ততোধিক বস্তুকে কোন কিছুর মাধ্যমে সংযুক্ত করা হলে উক্ত ব্যবস্থাকে বলে
নেটওয়ার্ক।
কম্পিউটার
নেটওয়ার্ক: পরস্পর ডেটা আদান-প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কম্পিউটার কোন যোগাযোগ মাধ্যম
দ্বারা একসঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।
কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য:
১. সর্বোচ্চ ব্যবহার: কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য
হচ্ছে কম্পিউটার ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. ইনফরমেশন রিসোর্স
শেয়ার করা
৩. সফটওয়্যার রিসোর্স
শেয়ার করা
৪. হার্ডওয়্যার
রিসোর্স শেয়ার করা
নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ:
নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি
করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে দুইভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১. পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network):
পাবলিক নেটওয়ার্ক পাবলিক
নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত নয় এবং যেকোনো সময় যেকোনো কম্পিউটার সংযুক্ত
হতে পারে। WAN বা ইন্টারনেট এ ধরনের নেটওয়ার্কের উদাহরণ।
২. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private
Network):
প্রাইভেট নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত
এবং যেকোনো সময় যেকোনো কম্পিউটার সংযুক্ত হতে পারে না। কতৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
আমরা যখন ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার চেষ্টা করি তখন অনেক সময় পাসওয়ার্ড চায়। এগুলো হচ্ছে
প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। PAN, LAN এবং CAN এ ধরনের নেটওয়ার্ক।
1.প্যান(PAN)-Personal
Area Network
2. ল্যান (LAN)- Local Area Network
3.ম্যান (MAN)- Metropolitan Area Network
4. ওয়্যান (WAN)- Wide Area Network
১. প্যান (PAN):
প্যান
(PAN) এর পূর্ণরূপ
হচ্ছে
Personal Area Network। কোনো ব্যক্তির নিকটবর্তী বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তথ্য আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে PAN বলে। PAN ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোর মধ্যে
যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত
হয়।
PAN
এর বিস্তৃতি
সাধারণত ১০ মিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। PAN
এ ব্যবহৃত
ডিভাইসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
ডিভাইস হচ্ছে ল্যাপটপ, পিডিএ, বহনযোগ্য প্রিন্টার, মোবাইল ইত্যাদি। PAN নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ডিভাইস USB, Fireware Bus বা কোন Wireless Medium দিয়ে যুক্ত থাকতে পারে।
২. ল্যান (LAN):
নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং সার্ভিস প্রদানের
ধরনের উপর ভিত্তি করে LAN দুই প্রকার:
ক. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer-to-Peer
Network):

যে নেটওয়ার্কে প্রতিটি
কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান ভুমিকা পালন করে তাকে পিয়ার টু পিয়ার
নেটওয়ার্ক বলে।
এখানে কোনো ডেডিকেটেড সার্ভার থাকে না, ফলে এখানে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে কোনো শ্রেণিবিন্যাসও নেই। প্রতিটি কম্পিউটার তার ডেটার নিরাপত্তা বিধানে নিজেই দায়ী থাকে।
এখানে কোনো ডেডিকেটেড সার্ভার থাকে না, ফলে এখানে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে গুরুত্বের দিক দিয়ে কোনো শ্রেণিবিন্যাসও নেই। প্রতিটি কম্পিউটার তার ডেটার নিরাপত্তা বিধানে নিজেই দায়ী থাকে।
খ. ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client
Server Network):
কেন্দ্রিয়ভাবে ডেটা স্টোর, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন এপ্লিকেশন চালানো এবং নেটওয়ার্ক চালানোর একটি উপযুক্ত নেটওয়ার্ক হলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক।
এ নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে রিসোর্স থাকে, আর নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার সেসব রিসোর্স ব্যবহার করে। যে কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ার করে সেটি হচ্ছে সার্ভার, আর যেসব কম্পিউটার সেই রিসোর্স ব্যবহার করে তারা হচ্ছে ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্ক স্টেশন।
এ নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে রিসোর্স থাকে, আর নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার সেসব রিসোর্স ব্যবহার করে। যে কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ার করে সেটি হচ্ছে সার্ভার, আর যেসব কম্পিউটার সেই রিসোর্স ব্যবহার করে তারা হচ্ছে ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্ক স্টেশন।
৩. ম্যান (MAN):
MAN এরপূর্ণরূপ
হচ্ছে
Metropolitan Area Network। একই শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কম্পিউটার এবং ডিভাইস নিয়ে যে নেটওয়ার্ক গঠিত
হয় তাকে MAN বলে।
মেট্রোপলিটন এরিয়া বলতে একটি শহর বা একটি
অঞ্চলকে বোঝায়। এই অঞ্চলের বিভিন্ন কম্পিউটার নিয়ে গড়ে ওঠে একটি Metropoliton
Area Network বা MAN । এ ধরনের
নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি প্রায় ১০০
কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। নেটওয়ার্কের
মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল ফাইবার কেবল বা রেডিও
ওয়েভ। সাধারণত কোনোব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিল্প
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা
অফিসের মধ্যে যোগাযোগের
জন্য এধরনের নেটওয়ার্ক
পদ্ধতি ব্যবহার করা
হয়।
৪. ওয়ান (WAN):
WAN এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Wide Area Network। যে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অনেক বড় ভৌগোলিক অবস্থান জুড়ে থাকে তাকে ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে।
এই নেটওয়ার্ক একটি দেশ বা পৃথিবীর
বিভিন্ন দেশের মধ্যে গড়ে উঠতে পারে। এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি কোন নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়। হাজার হাজার LAN এবং MAN নিয়ে
এই নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে। এই নেটওয়ার্কে ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল
ফাইবার কেবল, রেডিও ওয়েভ, টেরিস্ট্রিয়াল বা স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ
ব্যবহৃত হতে পারে। ডেটা প্রবাহের গতি ১০০ Mbps থেকে ১০০ Gbps হতে
পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়
WAN
এর
উদাহরণ হলো ইন্টারনেট।





No comments:
Post a Comment