Program Design Model


প্রোগ্রাম ডিজাইন মডেল

সহজ উপায়ে কার্যকরী প্রোগ্রাম তৈরির জন্য যে বিশেষ নীতিমালা বা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাকে প্রোগ্রাম ডিজাইন মডেল বলে। প্রোগ্রামের মডেল হলো প্রোগ্রামের গঠনশৈলী। সুন্দরভাবে প্রোগ্রাম লেখা ও সহজে বুঝার জন্য প্রোগ্রাম রচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি মডেল ব্যবহার করা হয়।
1.      স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং
2.     ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং
3.    অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং
4.      ইভেন্ট ড্রাইভেন প্রোগ্রামিং।

স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং: 
স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং হল এমন একটি প্রোগ্রামিং পদ্ধতি যেখানে একটি সমস্যাকে বিভিন্ন ছোট ছোট মডিউল বা অংশে ভাগ করে একটি বড় সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রতিটি মডিউলকে ফাংশনও বলা হয়।

স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং এর বৈশিষ্ট্য:
   ১। সহজে অনুধাবনযোগ্য।
   ২। সহজে রচনা করা যায়।
   ৩। ডিবাগিং করা সহজ।
   ৪। মডিউল বহু ব্যবহারযোগ্য।
   ৫। রক্ষণাবেক্ষণ সহজ।

স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং এর সুবিধা:
   ১একটি বড় প্রোগ্রামকে খুব সহজেই সমাধান করা যায়।
   ২যেহেতু প্রোগ্রামকে বিভিন্ন মডিউলে ভাগ করা হয়, তাই প্রয়োজনে একটি মডিউলকে বার বার ব্যবহার করা যায়।
   ৩বিভিন্ন মডিউলে ভাগ করায় ডিবাগিং বা প্রোগ্রামের ভূল সংশোধন করা সহজ।

ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং:
স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিংয়ের কাঠামো ভাষাকে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসে রূপান্তরিত করে তৈরি করা প্রোগ্রামিংয়ের নতুন পরিবেশকেই ভিজ্যুয়াল প্রাগ্রামিং বলা হয়এক্ষেত্রে প্রোগ্রামের কমান্ড বা Statement নির্দেশ মেনু মাধ্যমে দেয়া হয়এজন্য এটা ব্যবহারকারীর নিকট খুবই জনপ্রিয়এই প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করার উল্লেখযোগ্য সুবিধা হচ্ছে তুলনামুলকভাবে অনেক কম নির্দেশ ব্যবহার করে প্রোগ্রাম রচনা করা যায়Visual Fox pro visual Basic, Visual C, Microsoft Access, Oracle Developer 200 ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর উদাহরণ তবে ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং এর গঠন তিন ধরনের হয়ে থাকেযথা
   ১. পর্যাক্রমিক গঠন
   ২. সিদ্ধান্তমুলক গঠন
   ৩. লুপ বা চক্র

অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং: 
অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং হল এমন একটি প্রোগ্রামিং পদ্ধতি যা স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং এর সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ কিছু সুবিধা যেমন- এনক্যাপ্সুলেশন, পলিমরফিজম ও ইনহেরিটেন্স প্রভৃতি ফিচার ব্যবহার করে প্রোগ্রাম লেখার সুবিধা প্রদান করে। অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং হল ডেটা কেন্দ্রিক প্রোগ্রামিং পদ্ধতি। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে প্রোগ্রামের ইন্সট্রাকশন গুলো ডেটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। একটি প্রোগ্রামিং ভাষাকে পরিপূর্ণ অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা বলা যাবে তখনই, যখন প্রোগ্রামিং ভাষাটি  ক্লাস, অবজেক্ট,  এনক্যাপ্সুলেশন, পলিমরফিজম ও ইনহেরিটেন্স প্রভৃতি ফিচারগুলো সাপোর্ট করবে। উদাহরণঃ জাভা, পাইথন, সি++ সি# ইত্যাদি হল অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা।

অবজেক্টঃ অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর ভাষায় যেকোন ব্যাক্তি বা বস্তুকে অবজেক্ট বলা হয়। যেমন একটি গাড়ি কে অবজেক্ট বলা যায়। প্রতিটি অবজেক্ট এর কিছু বৈশিষ্ট্য (attribute) ও আচরণ (behavior) থাকে। যেমন একটি গাড়ির কালার, মডেল ইত্যাদি হল বৈশিষ্ট্য, আবার গাড়িটি সামনে চলতে পারে এবং পিছনে চলতে পারে এগুলো হল আচরণ।

ক্লাসঃ অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর ভাষায় ক্লাস হল ভেরিয়েবল ও মেথডের সমন্বয়ে একটি টেম্পলেট বা ব্লুপ্রিন্ট  যা কোন অবজেক্ট এর বৈশিষ্ট্য (attribute) ও আচরণ (behavior) উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা হয়।

এনক্যাপ্সুলেশনঃ অবজেক্ট এর বৈশিষ্ট্য (attribute) ও আচরণ (behavior) কে একত্র করে ক্লাস তৈরি করাকে বলা হয় এনক্যাপ্সুলেশন।

পলিমরফিজমঃ পলিমরফিজম মানে হল বহুরূপ। একাদিক কোড মডিউলের নাম এক হলেও ভিন্ন ভিন্ন রূপ থাকতে পারে, এক্ষেত্রে কোন মডিউলটি কাজ করবে তা নির্ভর করে ডেটা পাঠানোর উপর।

ইনহেরিটেন্সঃ অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এ ইনহেরিটেন্স এমন একটি ফিচার, যার কারণে একটি ক্লাসের বৈশিষ্ট্য অপর একটি ক্লাস ব্যবহার করতে পারে, একে বলা হয় ইনহেরিট করা। যে ক্লাস কে ইনহেরিট করা হয় তাকে বলে বেজ ক্লাস এবং যে ক্লাস অন্য ক্লাসকে ইনহেরিট করে তাকে বলে ডিরাইভড ক্লাস।

ইভেন্ট ড্রাইভেন প্রোগ্রামিং: 
চিত্রভিত্তিক প্রোগ্রামিংগুলো হলো ইভেন্ট ড্রাইভেন প্রোগ্রামিং অর্থাৎ যে প্রোগ্রামিং এর বিভিন্ন নির্দেশ বা ইন্সট্রাকশন চিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয় তাকে ইভেন্ট ড্রাইভেন প্রোগ্রামিং বলে। কী বোর্ডের কোন Key Press করা কোনো বিশেষ কন্ট্রোলের উপরমাউস এর পয়েন্টার ক্লিক করা ইত্যাদি কাজ হলো ইভেন্ট। ব্যবহারকারী যখন কোনো কমান্ড বাটন এর উপর ক্লিক করেন তখন সেই নির্দেশটি কার্যকর হয়।


No comments:

Post a Comment